জুমার দিনের ফজিলত ও আমল
জুমুআহ অর্থাৎ জমায়েত বা সমাবেশ ও
সম্মেলনের দিন। এটি মুসলিমদের সাপ্তাহিক ঈদ ও বিশেষ
ইবাদতের দিন। জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন, যা মুসলিম উম্মাহর
জন্য আল্লাহ্র পক্ষ থেকে
এক বিশেষ নেয়ামত, যেখানে গুনাহ মাফ, দোয়া কবুল এবং মর্যাদা লাভের সুবর্ণ সুযোগ থাকে, কারণ এ দিনে ঈমানদারদের
সাপ্তাহিক ইবাদতের জন্য একত্রিত করা হয়, যা ঈদুল ফিতর
ও ঈদুল আজহার দিনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, আর এই দিনে
বহু ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
ঘটেছে, যেমন আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, জান্নাতে
প্রবেশ ও বহিষ্কার, এবং
কেয়ামতের দিনও এটি একটি বিশেষ দিন।
জুমার
দিনের
ফজিলত
ও
বৈশিষ্ট্য:
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন: হাদিসে জুমার দিনকে সপ্তাহের সকল দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে এবং এটি আল্লাহ্র কাছে অধিক সম্মানিত।
গুনাহ মাফ: সুন্দরভাবে ওযু করে মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনলে আগের ও পরের জুমার মধ্যবর্তী এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের ছোট গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
দোয়া কবুল: জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময় রয়েছে, যা হাদিসে উল্লেখিত আছে।
জান্নাত ও জাহান্নাম: এ দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল, বের করা হয়েছিল এবং কেয়ামতও এই দিনে হবে বলে বর্ণিত আছে।
ঈমানের সম্মেলন: এটি মুমিনদের সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন, যেখানে সবাই জামাতে একত্রিত হয়ে আল্লাহ্র স্মরণ করে এবং ঈমানকে দৃঢ় করে।
জুমার গুরুত্ব আল্লাহ তায়ালার কাছে এত বেশি যে, কুরআনে `আল-জুমুআ' নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা "সুরা আল-জুমুআ'' আয়াত ০৯ এ বলেন-
"হে মুমিনগণ, জুমআর
দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা
বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ''।
করণীয়:
১.গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা বা নতুন পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা।
২.আগে আগে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
৩.এই দিনে দান-খয়রাত করার সওয়াব বেশী।
৪.খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনা।
৫.বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।
৬.কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করা।
জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য নেয়ামত ও বরকতময় দিন,যার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url